হাজতে পরিচয়, বেরিয়েই ছিনতাই হত্যা

A+ A-

 এক নারীসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। ছবি: সংগৃহীত 

জেলহাজতে পরিচয়। চারজনের বাড়ি চার জেলায়। তারা অপরাধ জগতের বাসিন্দা। একেকজনের বিরুদ্ধে হত্যাসহ ৮-১০টি করে মামলা রয়েছে। তাদের পেশা ছিনতাই-ডাকাতি। বাধা দিলেই করা হয় হত্যা। গত ২৮ অক্টোবর সখীপুরে চালককে হত্যা করে তাঁর অটোরিকশাটি ছিনিয়ে নেয় ওই চারজন। দুই হাত পেছনে বেঁধে শ্বাসরোধে হত্যা করে লাশটি ফেলে রেখে পালিয়ে যায় তারা। গত দুই দিনে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার চারজন এমনই তথ্য দিয়েছে।

ছিনতাই-হত্যার অভিযোগে গ্রেপ্তার চারজনের বিষয়ে শুক্রবার সাংবাদিকদের জানিয়েছেন টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার। 

তিনি জানান, চারজনই আন্তঃজেলা অটোরিকশা ছিনতাইকারী চক্রের সদস্য। তাদের নেটওয়ার্ক দেশজুরে বিস্তৃত। গ্রেপ্তার চারজনের নামে বিভিন্ন থানায় ৮-১০টি করে মামলা রয়েছে। তারা ভিন্ন ভিন্ন এলাকার বাসিন্দা। এর আগে জেলখানায় তাদের মধ্যে আলাপ-পরিচয় এবং বাইরে বেরিয়ে ফের একত্রিত হয়ে অটোরিকশা ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা হয়। অন্য জেলায় তাদের আরও সদস্য রয়েছে। শুধু অটোরকিশাটি ছিনতাইয়ের জন্যই চালক আমিনুল ইসলামকে খুন করা হয়। 

গ্রেপ্তার চারজন হলো– লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ থানার মধ্য গোপালরায় গ্রামের মনিরুলের স্ত্রী শরিফা আক্তার শিল্পী, পিরোজপুরের কাউখালী থানার হোগলা গ্রামের বাহার হোসেন কাজল মোল্লা, টাঙ্গাইলের সখীপুর থানার ঘেচুয়া গ্রামের খোকন মিয়া ও নরসিংদীর শিবপুর থানার দত্তেরগাঁও ভিটিপাড়া গ্রামের মোকলেছুর রহমান। এ ঘটনায় জড়িত শিল্পীর স্বামী মনিরুলকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সরফুদ্দিন (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) জানান, গত ২৮ অক্টোবর সকাল ৯টার দিকে অটোরিকশা নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন চালক আমিনুল ইসলাম। এর পর আর বাড়ি ফেরেননি। পরদিন সকালে কালমেঘা গ্রামের বেলতলী এলাকার জঙ্গল থেকে তাঁর হাত-পা ও মুখ বাঁধা লাশ উদ্ধার করে থানা পুলিশ। পরে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে সখীপুর থানায় মামলা করেন নিহতের বাবা আবদুল জলিল।

ঘটনার পর সখীপুর থানা পুলিশের সঙ্গে জেলা গোয়েন্দা শাখাও (ডিবি) তদন্ত শুরু করে। জানতে পারে, একজন নারী অসুস্থতার কথা বলে ওই দিন আমিনুলের অটোরিকশাটি ভাড়া করে নিয়ে যায়। ডিবি ওই নারীকে শনাক্ত করে গাজীপুরের কাশিমপুর থেকে গ্রেপ্তার করে। এই নারী পুলিশের কাছে হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করে। 

পুলিশকে জানায়, সখীপুরের খোকনের সঙ্গে জেলহাজতে তাদের পরিচয়। খোকন ১০ দিন আগে জেলহাজত থেকে ছাড়া পায়। সে অটোরিকশাটি ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা করে। ছিনতাইয়ে বাধা দিলে চালককে হত্যা করা হয়। এই হত্যাকাণ্ডে তার স্বামীসহ পাঁচজন জড়িত। তার দেওয়া তথ্যর ভিত্তিতে অন্য তিনজনকে আশুলিয়ার কুরগাঁও থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

মোকলেছুর রহমানের বিরুদ্ধে নরসিংদী ও নারায়ণগঞ্জ জেলার বিভিন্ন থানায় অস্ত্র ছিনতাই ও হত্যাসহ ১০টি, খোকন মিয়ার বিরুদ্ধে টাঙ্গাইল, নরসিংদী ও নারায়ণগঞ্জ জেলার বিভিন্ন থানায় হত্যাচেষ্টাসহ ৮টি, বাহার হোসেন কাজল মোল্লার বিরুদ্ধে মানিকগঞ্জ ও নরসিংদী জেলার বিভিন্ন থানায় হত্যাচেষ্টা, মাদকদ্রব্য, ছিনতাই, অস্ত্রসহ পাঁচটি ও শিল্পীর বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে আশুলিয়া থানায় একটি মামলা রয়েছে। তাদের সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হবে বলে জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সরফুদ্দিন।

This theme has been Customized by codecloc - Your Next IT Solution

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতর পূর্বতন